সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ঢাকা শহরের কুলদেবী মা ঢাকেশ্বরী কেন কলকাতায় ?

 

ঢাকা শহরের কুলদেবী মা ঢাকেশ্বরীর বিগ্রহটি বর্তমানে কলকাতার কুমারটুলি অঞ্চলে দুর্গাচারণ স্ট্রিটের শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী মাতার মন্দিরে রয়েছে। বর্তমানে ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে থাকা বিগ্রহটি মূল মূর্তির প্রতিরূপ।


দেশভাগ-পরবর্তী দাঙ্গার সময় সম্ভাব্য আক্রমণ এবং লুন্ঠনের হাত থেকে বিগ্রহকে রক্ষা করতে ঢাকার মূল বিগ্রহটিকে গোপনে এবং দ্রুততার সঙ্গে ১৯৪৮-এ কলকাতায় নিয়ে এসেছিলেন রাজেন্দ্রকিশোর তিওয়ারি (মতান্তরে প্রহ্লাদকিশোর তিওয়ারি) এবং হরিহর চক্রবর্তী। বিশেষ একটি বিমানে ঢাকেশ্বরী আসল বিগ্রহটি কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছিল। কলকাতায় বিগ্রহটি আনার পর প্রথম দু'বছর হরচন্দ্র মল্লিক স্ট্রিটে দেবেন্দ্রনাথ চৌধুরির বাড়িতে দেবী পূজিতা হন।

বাংলার প্রথম সুবেদার মানসিংহ এই বিগ্রহ ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করে আজমগড়ের এক তিওয়ারি পরিবারকে সেবায়েত নিযুক্ত করেছিলেন। ১৯৪৬ সালে সেই পরিবারের বংশধরেরাই কলকাতায় এসে পুনরায় সেবায়েত নিযুক্ত হন, এখনো তারাই দেবীর নিত্য সেবা করেন। ধারনা করা হয় প্রাচীন বিগ্রহটি, যেটি বল্লাল সেন প্রতিষ্ঠা করেন, সেটি বখতিয়ার খিলজির বাংলা আক্রমনের পর তুর্কি শাসকরা মন্দির সহ ধ্বংস করে ফেলেন । মানসিং বাংলায় এসে ঢাকেশ্বরী মন্দির টি সংস্কার করেন ও মা ঢাকেশ্বরীর বিগ্রহ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন ।

সুতরাং, পাকিস্তান পরবর্তী দাঙ্গা হাঙ্গামা থেকে বিগ্রহ টি কে রক্ষা করতেই সেটিকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। ঢাকেশ্বরীর বিগ্রহটি একই সাথে বাংলায় সুলতানি আমলের ধ্বংসযজ্ঞ ও পাকিস্তান আমলের সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের এক নীরব সাক্ষী ।

মন্তব্যসমূহ